শিশুর মাথা ন্যাড়া কখন করবেন?

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

বুধবার, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৩:১৬ পিএম


শিশুর মাথা ন্যাড়া কখন করবেন?
প্রতীকী ছবি

মাথা ন্যাড়া করলে কি সত্যিই চুল ঘন হয়? এই প্রশ্নটি আমাদের সমাজে দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে ঘন চুলের আশায় বারবার মাথা ন্যাড়া করার প্রবণতা দেখা যায়। এ নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। 

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মাথা ন্যাড়া করার অর্থ হলো কেবল দৃশ্যমান চুলগুলো কেটে ফেলা, যা সরাসরি হেয়ার ফলিকলের জিনগত গঠন পরিবর্তন করতে পারে না। তবে চুল গজানোর বিপরীত দিক দিয়ে রেজার বা ক্ষুর ব্যবহার করলে মাথার ত্বকের বা স্ক্যাল্পের বন্ধ হয়ে থাকা ফলিকলের ছিদ্রগুলো খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর ফলে নতুন ফলিকল থেকে চুল গজানোর সুযোগ তৈরি হয় এবং মাথার চুলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে, যা চুলকে আগের তুলনায় কিছুটা ঘন দেখাতে সাহায্য করে।

কিন্তু ন্যাড়া হওয়ার ফলে একটি পাতলা চুল রাতারাতি মোটা হয়ে যাবে—এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ডার্মাটোলজিস্টরা খুঁজে পাননি। চুলের গঠন মূলত জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের মতে, মাথা ন্যাড়া করার বেশ কিছু ব্যবহারিক সুবিধাও রয়েছে। বিশেষ করে চুল পড়া রোধে চিকিৎসকের দেওয়া কোনো ওষুধ বা লোশন সরাসরি স্ক্যাল্পে পৌঁছানোর জন্য ন্যাড়া হওয়া বেশ কার্যকর।

এছাড়া যাদের মাথায় খুশকি, উকুন বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ রয়েছে, তাদের জন্য বারবার চুলের যত্নের চেয়ে একবার মাথা ন্যাড়া করে চিকিৎসা নেওয়া অনেক বেশি ফলপ্রসূ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

কুমুদিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক প্রভাষক ডা. সাবিকুন নাহারের মতে, চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়লে বা স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে মাথা ন্যাড়া করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। কারণ এতে মাথার ত্বকের সঠিক যত্ন নেওয়া সহজ হয়।

তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই কাজটি বারবার করা মোটেও ঠিক নয়। বারবার ন্যাড়া করলে মাথার সংবেদনশীল ত্বকে বাড়তি চাপ পড়তে পারে, যা হিতে বিপরীত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, তাদের মাথার ত্বক অনেক বেশি নরম ও সংবেদনশীল থাকে, তাই বারবার ন্যাড়া করা এড়িয়ে চলাই ভালো। একবার ন্যাড়া করার পর থেকে যদি নিয়ম মেনে চুল ও স্ক্যাল্পের যত্ন নেওয়া যায়, তবে বারবার কাটার প্রয়োজন পড়ে না। যদি একান্তই চুলের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজন মনে হয়, তবে শিশুর বয়স ৮ থেকে ১০ বছর হলে দ্বিতীয়বার ন্যাড়া করার কথা ভাবা যেতে পারে। একইভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে একবার বা দুবার ন্যাড়া হওয়া যেতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, কেবল ন্যাড়া হওয়াই যথেষ্ট নয়; নতুন চুল গজানোর পর নিয়মিত যত্ন এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসই চুলের স্বাস্থ্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো রাখতে সক্ষম। তাই ঘন ঘন ন্যাড়া হওয়ার অভ্যাস বাদ দিয়ে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাথার ত্বকের পরিচর্যা করাই হবে প্রকৃত সমাধান।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission